Breaking News
Home / জাতীয় / মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রিপ্রেজেন্টেটিভদের দাড়া রোগীদের ভোগান্তি

মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রিপ্রেজেন্টেটিভদের দাড়া রোগীদের ভোগান্তি

আয়শা জান্নাত : ঢাকার শুরুতে ও নারায়ণগঞ্জের শেষে এই মধ্যবর্তী স্থানে ঢাকা মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট । এখানে মূলত গর্ভবর্তী মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।দিনে দিনে এই হাসপাতালে রোগীদের ভীর বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি ।

রোগীরা লাইনে দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে থাকে ডাক্তারদের সাথে স্বাক্ষাতের জন্য অথচ মেডিসিন রিপ্রেজেন্টেটিভদের কারনে তাদেরকে দৌরাত্মের শিকার হতে হয় । তারা লাইনে দাড়িয়ে থাকা রোগীদের উপেক্ষা করে ডাক্তারদের রুমে চলে যায় এবং দীর্ঘক্ষন আলাপ- আলোচনা করে । এতে লাইনে দাড়ানো রোগীদের ডাক্তারের স্বাক্ষাত পেতে আরো দেরি হয়। যা খুবই বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ।

অন্যদিকে, দেখা যায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে বা ফটোকপি করে রিপ্রেজেন্টেটিভরা নিজেদের চাকরির পথ মসৃণ রাখার চেষ্টায় মত্ত । এছাড়াও তাদের অনেকের মাঝে নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর সেদিকে কোন নজর নেই।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়- হাসপাতালে রোগিদের দীর্ঘ লাইন এর মধ্য দিয়ে অনেক রিপ্রেজেন্টেটিভ ডাক্তারদের সাথে দেখা করে আর্থিক সুবিধা, বিদেশে সভা-সেমিনারে যেতে পৃষ্ঠপোষকতা, দামি স্মার্ট ফোন গিফট, বাসায় টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র গিফট করাসহ নানা ধরনের লোভনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে চিকিৎসকদের্র্র্র্র্র্র প্রভাবিত করছেন। এমনকি চিকিৎসকদের দিয়ে নিম্নমানের ওষুধ লেখাচ্ছেন রোগীর প্রেসক্রিপশনে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, আমি সকালে আসেছি মদনপুর থেকে ডাক্তার দেখয়েছি এখন ট্রেস্টগুলো দেখাবো ৪০ মিনিট হয়েছে ডাক্তার নেই।

চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগি ইয়াসমিন বলেন, আমি গতকাল আমার স্বামীর সাথে আসেছিলাম, আজ মাকে নিয়ে এসেছি ট্রেস্ট দিয়েছিল সেগুলো দেখাতে । ডাক্তার দেখানোর পর দেখি আমার হাতের প্রেসক্রিপশন আমার হাতে নেই নিয়ে গেছে রিপ্রেজেন্টেটিভরা ছবি তুলার জন্য ।

চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগি পারভীন বলেন, টিকিটের জন্য ৩০ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে থেকে টিকেট নিয়েছি। টিকেট কাউন্টারের
মাকসুদা অন্য একজনের সাথে কথা বলছিলেন, তাকে আমি বলেছি, ম্যাডাম একটু তাড়াতাড়ি দেন ডাক্তার চলে যাবে সিরিয়াল তো অনেক বড়। তিনি বলেন, বেশি কথা বললে কাউন্টার বন্ধ করে চলে যাবো ।

আরেক রোগী রোজিনা বলেন, দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে আছি ডাক্তার নাই তিনি নাকি? খেতে গিয়েছেন দের ঘন্টা ধরে খাচ্ছেন। এখনোও ডাক্তারের খাবার শেষ হয়নি।জানি না ডাক্তার আসবে কি না ?

এই বিষয় মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মান্নানের সাথে দেখা করতে গেলে তাকে তার রুমে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও তার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তিনি কল দেন এবং এস এস (অনলাইন) টিভি চ্যানেলকে বলেন,আমরা সপ্তাহে তিনদিন রিপ্রেজেন্টেটিভদে দুপুর ১টার পর আসার অনুমতি দিয়েছি।কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কেউ এখনো এমন কোন অভিযোগ করেনি।আপনিই প্রথম আমাদের এমন অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও তাদেরকে চিনা যায় না। আগে তারা ব্যাগ নিয়ে আসতো এখন তারা খালি হাতে আসে। আমরা চাই না রিপ্রেজেন্টেটিভদের কারনে হাসপাতালে রোগীরা হয়রানির শিকার হউক ।

টিকেট কাউন্টার মাকসুদা সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনি অভিযোগ করেছেন আমরা এর ব্যবস্থা নিবো। আপনি প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করুন। যে রোগীদের দাড়া তার রুটি-রোজগার চলে সেখানে তিনি এ কথা বলবেন এমন লোকের দরকার নেই।

পুরো হাসপাতাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রিপ্রেজেন্টেটিভ। সুযোগ পেলেই হাসপাতালের বেঁধে দেয়া নিয়ম ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছেন, চিকিৎসকের কক্ষে যাচ্ছেন, রোগীকে প্রভাবিত করছেন, প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছেন ইত্যাদি। এসব করতে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন খুবই কম হচ্ছেন। যে কারণে তাদের দাপট কমছেই না। পণ্য প্রচারণায় কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ ঢেলে তারা সবকিছু ম্যানেজ করে নিচ্ছেন নিমিষেই। কোনো রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর বা কোনো ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী নেতার প্রতিষ্ঠানের বলে বাধার ছিটেফোঁটাও পান না।

গত ৩০ মে থেকে  ৬ জুন রবিবার পর্যন্ত ঢাকা মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের গেটে দেখা যায়, শ’খানেক মোটর সাইকেল পার্কিং করা। এসবই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের। এ দৃশ্য প্রতিদিনের। এ থেকেই অনুমান করা যেতে পারে, কী পরিমাণ রিপ্রেজেন্টেটিভের দৃষ্টি এই হাসপাতালের দিকে। শুধু গাইনী বিভাগে নয়, জরুরি বিভাগের সর্বত্রই ঝাঁকে ঝাঁকে রিপ্রেজেন্টেটিভের সন্ধান মেলে।

এই বিষয় মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মান্নানের ভাষ্য মতে সপ্তাহে ৩ দিন রিপ্রেজেন্টেটিভদের আসার কথা ও দুপুর ১টার পর কিন্তু সেখানে দেখা যায়, সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগীদের বিরক্ত করছে রিপ্রেজেন্টেটিভরা ।

Check Also

‘প্রজেক্ট হিলশা’র শৌচালয় ব্যবহার করে হাত ধোয় না কর্মচারীরা, ময়লা ফেলে রাস্তায় : এমন অভিযোগ ভোক্তা অধিকার

‘প্রজেক্ট হিলশা’র শৌচালয় ব্যবহার করে হাত ধোয় না কর্মচারীরা, ময়লা ফেলে রাস্তায় ।এছাড়া প্রজেক্ট হিলশার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *