Breaking News
Home / আইন ও আদালত / মণিরামপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ৫ জন আহত, ১০ মন আম লুট, ৮ জনের নামে মামলা

মণিরামপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ৫ জন আহত, ১০ মন আম লুট, ৮ জনের নামে মামলা

মণিরামপুর প্রতিনিধি : মণিরামপুরে বিরোধীয় জমি থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সাফিয়া বেগম নামে এক গৃহবধুসহ অন্তত: পাঁচজন আহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে হামলার পর ওই আমবাগান থেকে প্রতিপক্ষরা ১০ মনের বেশি আম লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করে দুই পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেন। হামলার শিকার হওয়া ভূক্তভোগীরা পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আটজনের নাম উল্লেখসহ মঙ্গলবার যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানাযায়, উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আবদুল খালেক হাকিমপুর ১৮৭ মৌজার ৪২ শতক জমি পৈত্রিকসূত্রে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তিনি বিভিন্ন জাতের প্রায় শতাধীক আমগাছ রোপন করেছেন। কিন্তু আবদুল খালেকের চাচাত ভাই রুহুল আমিন ওই জমির একটি অংশ পৈত্রিক সূত্রে দাবি করে আসছেন। মূলত: এ নিয়েই আবদুল খালেক এবং রুহুল আমিনের পরিবারের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে। একপর্যায়ে আবদুল খালেক বিষয়টি আদালতে সরনাপন্ন হলে ওই জমির উপর নিষেধাজ্ঞা (১৪৪ ধারা) জারি করা হয়।

বর্তমান ওই জমির আমগাছে প্রচুর ফলন হয়েছে। ফলে আবদুল খালেক কিছু আম বিক্রি করে দেন স্থানীয় এক ব্যাপারীর কাছে।ওই ব্যাপারী গত ২১ মে সকালে আম পাড়তে আসলে প্রতিপক্ষ রুহুল আমিন ও তার ছেলে তরিকুল ইসলাম, হালিম বিশ্বাস,সেলিম বিশ্বাসসহ তার লোকজন বাঁধা প্রদান করেন। এসময় আবদুল খালেক ও তার পরিবারবর্গ প্রতিবাদ করলে রুহুল আমিন ও তার ছেলে তরিকুল ইসলামসহ তাদের পক্ষের ৮/৯ জন লোকজন লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারপিট করে । এতে আবদুল খালেকের স্ত্রী সাফিয়া বেগম গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া আহত হয় আবদুল খালেক, ছেলে আবু সাইদসহ পরিবারের অন্তত: পাঁচ জন। আবদুল খালেকের ভাগ্নে রবিউল ইসলামের অভিযোগ, মারপিটের পর রুহুল আমিনরা আমাগাছ থেকে প্রায় ৫০ ক্যারেট(১০ মনের বেশি) আম পেড়ে লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তিতে স্থানীয়রা আহতদের মধ্যে গুরুত যখম হওয়া সাফিয়া বেগমকে উদ্ধারের পর কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে রুহল আমিনের ছেলে তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন হাসপাতালে সাফিয়া বেগমের চিকিৎসায় বাঁধা দেন। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে রেজাউল ইসলাম নামে একজন নিকট আত্বিয় সাফিয়া বেগমের চিকিৎসার খবর নিতে গেলে তরিকুল ইসলাম ও তার লোকজন তাকে ধরে নিয়ে আটকিয়ে রাখে। পরে অবশ্য সাফিয়ার লোকজন সেখান থেকে রেজাউলকে উদ্ধার করে।

আবদুল খালেক জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তার স্ত্রী সাফিয়া বেগমকে কেশবপুর থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আবদুল খালেক প্রতিপক্ষ রুহুল আমিন ও তার ছেলে তরিকুল সহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তবে হামলা এবং আম লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন জানান, আদালত কর্তৃক জারীকৃত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবদুল খালেক ও তার লোকজন বিরোধীয় জমি থেকে আম পাড়ার সময় তারা প্রতিবাদ করেন।

রুহুল আমিনের ছেলে তরিকুল ইসলাম জানান, আম পাড়ার সময় বাঁধা দিতে গেলে খালেক ও তার লোকজন তাদের উপর উল্টো হামলা চালায়। এ ঘটনায় তার পিতা বাদি হয়ে থানায় আবদুল খালেক ও তার পরিবারবর্গের নামে পাল্টা একটি অভিযোগ করেন। সর্বশেষ আবদুল খালেক কোন উপায়ন্তু না পেয়ে মঙ্গলবার বাদি হয়ে আদালতে প্রতিপক্ষ রুহুল আমিন, তরিকুল ইসলামসহ আট জনের নামে একটি মামলা করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে মণিরামপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হবে।

 

 

Check Also

ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক – ওসি মনিরুজ্জামান

যানজট নিরসনের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক হবে বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *