Breaking News
Home / প্রধান সংবাদ / মণিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান ডাঃ আতিউর

মণিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান ডাঃ আতিউর

মণিরামপুর প্রতিনিধি:

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মণিরামপুরের ১৪নং-দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান আওয়ামীলীগনেতা ও পল্লী চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আতিউর রহমান। অনুন্নত ও সুবিধা বঞ্চিত এ ইউনিয়নকে আলোকিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এ জনপদে নৌকার মাঝি হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।

নির্বাচন কমিশন দেশের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দ্রুত শেষ করার জন্য ইতোমধ্যে প্রথম ধাপের তফসীল ঘোষনা শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দ্রুত সমাপ্ত করার লক্ষে গত ১৭ মার্চ প্রধম ধাপে ৩২৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে এ তফসীল ঘোষনা করেছেন। যে কারণে যারা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষন করেছেন-তারা প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমনি মণিরামপুরের ১৪নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে অনেক আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ ডাঃ মোঃ আতিউর রহমান। ইতোমধ্যে তিনি নিজেকে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন ।

নির্বাচনী মাঠে তিনি নতুন মুখ হলেও ইউনিয়নসহ উপজেলা পর্যায়ে ডাঃ মোঃ আতিউর রহমান একজন পরিচিত মুখ। সদালোপী ও হাস্যজ্জল একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে যে কোন অপরিচিত মানুষকে অতি অল্প সময়ে আপন করে নিতে পারেন। আতিউর রহমান পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক হয়েও রাজনীতি আর সমাজ উন্নয়নে এ ইউনিয়নের প্রতিটি পরতে-পরতে কাজ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ নিস্বার্থভাবে তিনি মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। এলাকার যে কোন মানুষ কোন বিপদ-আপদে পড়লে নিজ উদ্যোগে সেখানে ছুটে যান তিনি। মানুষের বিপদে ঘরে বসে থাকতে পারেন না-ছুটে যান বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে। সদাসর্বদা সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করা, যুব সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা, মাদকমুক্ত ও ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তোলার চেষ্টার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অংশগ্রহণে সব সময় নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। যে কারণে ইউনিয়নের সকল ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে জনদরদী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি। জনগণের ইচ্ছা ও ভালবাসার প্রতিদান দিতে-জনপ্রতিনিধি হয়ে ইউনিয়নবাসির সেবা করা এবং তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে সর্বদা তাদের পাশে থাকর জন্য এবার এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন শুধু ব্যক্তিগত সহযোগীতা দিয়ে সমাজ ও সমাজের মানুষের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। তাই বৃহৎ পরিসরে সমাজের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান। যে কারণে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন তিনি। এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দক্ষ সংগঠক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য তার বিকল্প নাই। যে কারণে এ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের বেশিরভাগ অংশই ডাঃ আতিউর রহমানের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করছেন। সেক্ষেত্রে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলে রেকর্ড পরিমান ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদকের সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকালে ডাঃ মোঃ আতিউর রহমান বলেন, ‘স্কুলে লেখাপড়া কালিন সময় থেকে আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন ভক্ত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেই থেকে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করি। আমি আজীবন দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৪নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ দলের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সম্পাদক মন্ডলীসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পলন করেছি। সেই স্কুল জীবন থেকে রাজনীতিতে পথচলা। এরপর থেকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র আমাকে হত্যা করার জন্য মেরে রক্তাক্ত করাসহ হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে উল্লাস করতে থাকে। আমি মারা গেছি এমনটি ভেবে তারা আমাকে ফেলে চলে যায়।

স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৭০ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সর্বপ্রথম মণিরামপুরে রাজনৈতিক সফরে আসেন-তখন আমি গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখা ও তাকে শুভেচ্ছা জানাতে সেদিন এ স্কুলের ১০ শ্রেণির সিনিয়র ছাত্র দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের গর্ব মরহুম সরোয়ার হোসেন ও নেহালপুরের শাজাহান ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা মণিরামপুর গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু রাত ১২টার দিকে মণিরামপুর আগমণ করেন এবং আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে বঙ্গবন্ধুর সেই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কাশিপুরের নেছার আলী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বরেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের চাহিদা অনুয়ায়ী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এবারও আমি অংশ নিতে চাই। জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীক দিলে এবার আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো-এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। নির্বাচিত হলে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব।’ এ ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করতে চাই, সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহযোগী হতে চাই। সে কারণে আমি বঙ্গবন্ধুর ও জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নৌকার মাঝি হয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।’

Check Also

ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক – ওসি মনিরুজ্জামান

যানজট নিরসনের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক হবে বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *