Home / প্রধান সংবাদ / বাঘাইছড়িতে খাবার পানির তীব্র সংকট : ১০বছর ধরে ঘুমিয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি

বাঘাইছড়িতে খাবার পানির তীব্র সংকট : ১০বছর ধরে ঘুমিয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি

 

বাঘাইছড়িঃ প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় খাবারের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কাঠ ফাটা রোদের খরতাপে পানি শুঁকিয়ে গেছে টিউবওয়েলে।একটু খাবার পানির আশায় এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম ঘুরেও মিলছে না এক কলসি বিশুদ্ধ পানি। এ নিয়ে বিপাকে ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি গ্রাম। এর মধ্যে ৩২নং বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব লাল্যাঘোনা এলাকার কয়েক পরিবার নদীর পানি গোসল সহ নানা-কাজে ব্যবহার করে। পুরো এলাকায় খাবারের পানি সংগ্রহের একমাত্র ভরসা একটি মাত্র পানির মটর । মটরটি দিনে দুইবার ছাড়া হয়,তাতে ভির জমায় ১৫/২০ পরিবার। রোজাদারদের এই করুন কষ্ট যেনো দেখার কেউ নেই।

এছাড়াও মারিশ্যা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে একই সংকট বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মডেল টাউন,কাচালং বাজার ও ৭নং ওয়ার্ড জি ওয়ান ব্লকের চিত্র ভিন্ন নয়, গুটিকয়েক পরিবার ছাড়া। খাবারের পানি অভাবের পাশাপাশি গোসল করাও আজ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও জীবতলী, ছন খোলা আদাম, রাবার বাগান, কচুছড়ি, শান্তি পুর বনবিহার এলাকার শতাধিক পাহাড়ী পরিবারে চলছে এই তীব্র পানির সংকট।
আরো জানা যায় সাজেক ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পানির সংকট দেখা দিচ্ছে প্রায় সকল এলাকায় পানির তীব্র সংকট।

অপরদিকে বাঘাইছড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পৌরসভা সদরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি ১০ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি। ফলে ২২.৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে বসবাস করা ৬৮ হাজার মানুষ চরম নিরাপদ পানির সংকটে পড়তে হয়। দীর্ঘ ১০ বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এরই মধ্যে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি ইলেকট্রিক ট্রাসফরমার, লোহার পাইপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পূর্ব জীবতলী গ্রামের রানী চাকমা বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করছি জানি না আমরা কি খাবার পানির অভাবে মারা যাবো।

ভুবন চাকমা বলেন, আমাদের এই খাবার পানির সমস্যা সমাধানে যদি কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে পানির সংকট নিরসন হবে।

সাজেকে ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান নেনশন চাকমা বলেন, শুকনো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অসহায় সাজেক ইউনিয়ন এর জনসাধারণ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় গভীর নলকূপ বসানো যাচ্ছে না। ঝর্না শুকিয়ে যাওয়ায় এখন একমাত্র ভরসা বৃষ্টির উপর কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে এই পাহাড়ি মানুষগুলোর।

বাঘাইছড়ি জনসাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, শুকনো মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেওয়ার কারণ হচ্ছে পানির লেয়ার কমে যাওয়া। আমরা আগে রিংওয়েল করেছিলাম কিন্তু রিংওয়েল গুলো শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তাই আমরা ডীপ টিউবওয়েল স্থাপন করে যাচ্ছি এবং পাহাড়ের মানুষের শতবাক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পানির সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত আছি, যে সকল গ্রামে পানির তীব্র সংকট সেখানে পানি সরবারাহের ব্যবস্থা করার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছি, খুব তাড়াতাড়ি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা হবে বলে আশাবাদী।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানির সংকট নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, তবুও পানির সংকট নিরসন করা যাচ্ছে না, পানি সংকট নিরসনে নানামুখী কাজ হাতে নিয়েছি, এবং বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।

Check Also

চরফ্যাশনে ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি, ভোলা : ভোলা চরফ্যাশন উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর উদ্যেগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *