Breaking News
Home / জাতীয় / ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রার শাহআলম’র রাজস্ব ফাঁকির (১ম – পর্ব)

ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রার শাহআলম’র রাজস্ব ফাঁকির (১ম – পর্ব)

সাব রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শাহআলম হচ্ছেন দুর্নীতির বরপুত্র! তার চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে তার কলম চলে না। কলমের কালি খরচ করেন তার চাহিদা মেটানোর পরে। নয়ত সে দোষ ধরতে ধরতে অনেক কাগজ পত্র ছুড়েই ফেলে দেন। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী অনেকের। যার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে তিনি হলেন, ফেনী সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শাহআলম ।

সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ঘুষ আর দালালের সাক্ষাৎ ছাড়া এখানে কিছুই মেলেনা। দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভিটাকে নাল, নালকে পতিত, ডোবা ও জমির শ্রেনী পরিবর্তন দেখিয় জমির দলিল সম্পাদন করে সাব রেজিস্ট্রার শাহআলম হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। জমির শ্রেনি পরিবর্তন করাই যেন তার অন্যতম কাজ বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূমি কর্মকর্তাদের নাম ও সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজ তৈরি করে সাব রেজিস্টার জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।সাব কবলায় সুলতানপুর মৌজায় ০৯ শতাংশ খতিয়ানে আসল ভিটি জমির স্থলে পতিত জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই ০৯ শতাংশ ভিটি জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ২৩,৯৬,১৯৬ (তেইশ লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার একশত ছিয়ানব্বই) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে পতিত জমি দেখিয়ে (২১,৮২০০০) একুশ লক্ষ বিরাশি হাজার টাকা।

সাব কবলায় চাঁডিপুর মৌজায় ০৯.৬৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল বাড়ীর স্থলে নাল জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই ০৯.৬৬ শতাংশ বাড়ীর জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ১,৩৬,০০,০০০ (এক কোটি ছত্রিশ লক্ষ ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে নাল জমি দেখিয়ে (৯০,০০,০০০) নব্বই লক্ষ টাকা।

সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় ৩.৯৪ শতাংশ খতিয়ানে আসল ৬ষ্ঠ তলা বাড়ীর স্থলে পুরাতন ৪ তলা ভবন দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই বাড়ীর সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৩,০০,০০,০০০ (তিন কোটি ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (২,০০,০০,০০০) দুই কোটি টাকা।

সাব কবলায় রতনপুর মৌজায় ০৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে পতিত জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই বাড়ীর সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৫,২৫,০০০ (পাঁচ লক্ষ পঁচিশ হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৪,২৫,০০০/-) চার লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা।সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় ০৩ শতাংশ খতিয়ানে আসল ভিটি জমির স্থলে বাগান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ২০,৮০,০০০ (বিশ লক্ষ আশি হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১৪,৮০,০০০/-) চৌদ্দ লক্ষ আশি হাজার টাকা।

সাব কবলায় মঠবাড়ীয়া মৌজায় ০৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে বাগান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৩,৮০,০০০ (তিন লক্ষ আশি হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৩,৪২,০০০/-) তিন লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার টাকা।

সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় ০৫.৫০ শতাংশ খতিয়ানে আসল ভিটি জমির স্থলে পতিত জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৫৫,৯৮,৪৫০ (পঞ্চান্ন লক্ষ আটানব্বই হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৪৯,৮৫,০০০/-) উনপঞ্চাশ লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকা।

সাব কবলায় চাডিপুর মৌজায় ০৬.৫৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে বাগান জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৩১,৯২,০০০ (একত্রিশ লক্ষ বিরানব্বই হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১৯,০০,০০০/-) উনিশ লক্ষ টাকা।সাব কবলায় চাডিপুর মৌজায় ১০.০৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে পুকুর জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৪৯,০৬,০০০ (উনপঞ্চাশ লক্ষ ছয় হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৮,৮৩,০০০/-) আট লক্ষ তিরাশি হাজার টাকা।

সাব কবলায় পূর্ব বিজয় সিংহ মৌজায় ০৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল পুকুর এর স্থলে পতিত জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৯,২৫,০০০ (নয় লক্ষ পঁচিশ হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৭,৫১,০০০/-) সাত লক্ষ একান্ন হাজার টাকা।

সাব কবলায় মঠবাড়ীয়া মৌজায় ১৪ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে বাগান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ১০,৬০,০০০ (দশ লক্ষ ষাট হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৯,৫৪,০০০/-) নয় লক্ষ চুয়ান্ন হাজার টাকা।

সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় ১১.৮৮ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে পতিত দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৮৩,০০,০০০ (তিরাশি লক্ষ ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৭০,০০,০০০/-) সত্তর লক্ষ টাকা।সাব কবলায় ফেনী মৌজায় ০৬.৬৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে পুকুর দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৫০,১৫,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ পনের হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১১,০০,০০০/-) এগার লক্ষ টাকা।

সাব কবলায় ধর্মপুর মৌজায় ০৮ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল/ভিটি জমির স্থলে বাগান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৩,৭০,০০০০/-) তিন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা।

সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় ০৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল বাড়ীর স্থলে বাগান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৯১,৩৩,০০০ (একানব্বই লক্ষ তেত্রিশ হাজার ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৭৯,৪৫,০০০/-) উনাশি লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা।

সাব কবলায় উত্তর শিবপুর মৌজায় ০৫.৩৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল ভিটি বর্তমানে বাড়ীর স্থলে পুকুর দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ১৯,০০,০০০ (উনিশ লক্ষ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১৪,০০,০০০/-) চৌদ্দ লক্ষ টাকা।

সাব কবলায় মজলিশপুর মৌজায় ০৯.৭৫ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল ভূমির স্থলে ডোবা দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৯,০০,০০০/-) নয় লক্ষ টাকা।সাব কবলায় রামপুর মৌজায় ০১.০৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল দোকান ভিটির স্থলে দোকান দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ২,০০,০০,০০০ (দুই কোটি) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১,১৬,০০,০০০/-) এক কোটি ষোল লক্ষ টাকা।

সাব কবলায় রামপুর মৌজায় ০৪.২১ শতাংশ খতিয়ানে আসল বাড়ীর স্থলে ডোবা দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ১,১৫,৪৯,০০০ (এক কোটি পনের লক্ষ উনপঞ্চাশ হাজার) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (৫৯,২৬,০০০/-) উনষাট লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকা।

সাব কবলায় বারাহিপুর মৌজায় একতা টাওয়ার নামীয় দালান গৃহের ২য় তলার দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিট এর ৩,০০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট এর স্থলে ১৮৮০ বর্গফুট দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এখানে সরকারি প্রকৃত মূল্য আসে ৩৬,০০,০০০ (ছয়ত্রিশ লক্ষ) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (১৩,৪৪,০০০/-) তের লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা।

সাব কবলায় রামপুর মৌজায় ০৪.৬৬ শতাংশ খতিয়ানে আসল নাল জমির স্থলে ডোবা/পতিত দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির সরকারি মৌজা অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য আসে ৩৩,৭০,০০০ (তেত্রিশ লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এই দলিলে (২৮,৫৭,০০০/-) আটাশ লক্ষ সাতান্ন হাজার টাকা।উল্লেখিত, এই ২১ টি দলিলে সর্বমোট ৮, ৩৩,৪৪,০০০/- ( আট কোটি তেত্রিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার) টাকা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আর প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের জনৈক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে প্রতিদিন ৬০-৭০ টি দলিল হয়। সে হিসাবে মাসে দলিল হয় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০। এসব খাত থেকে প্রতিমাসে শুধু সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আয় হয় অর্ধ কোটি টাকা। আর এসবের ম্যানেজম্যান হলো সাব রেজিস্ট্রার এর শ্যালক শামীম ও অফিস পিয়ন……।

সাব রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মচারী তার নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, মোহাম্মদ শাহআলম যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে জাল দলিলেও তিনি রেজিস্ট্রি করে দেন।

সাব রেজিস্ট্রারের মোহাম্মদ শাহআলম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

তবে অনুসন্ধান শেষে, ডিআর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি মুঠোফোন টি রিসিভ করেন নি।

প্রতিবেদক বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ ও ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বলে জানায়।

Check Also

ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক – ওসি মনিরুজ্জামান

যানজট নিরসনের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হবে স্বস্তির সড়ক হবে বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *